Published On: Wed, Jan 11th, 2017

কুকুরের আক্রমণ, ক্যান্সারসহ নানা রোগে ভুগছেন জেনারেল মঈন

বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভেনের রূপকার ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ. আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও ভালো নেই। এক সময়ের দোর্দান্ড প্রতাপশালী এই সেনা কমকর্তা এখন নানা জটিল রোগে ভুগছেন।

 

মেরুদণ্ডের হাড়ে ক্ষয় দেখা দিয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকবেন তাকে কেমোথেরাপি নিতে হবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছেন। ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা করাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি আর্থিক সঙ্কটেও পড়েছেন। এমন তথ্যই জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত এক সময়ে প্রচণ্ড ক্ষমতাধর সেনা কর্মকর্তা এখন স্বজনদের ওপর অনেকটা বোঝা হয়ে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। একের পর এক দুরাবস্থার মধ্যে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ’র মতই প্রতিবেশীর এক পোষা কুকুরের আক্রমণের শিকার হন তিনি। নিউইয়র্কের বাংলা ভাষার সাপ্তাহিক পরিচয় তাদের এক সংখ্যায় এ খবর প্রকাশ করেছে।

সাপ্তাহিক পরিচয়ের ওই খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বেশ কয়েক মাস আগে সাবেক এই সেনাপ্রধান কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। সেখানে পাশের বাড়ির মালিকের একটি পোষা কুকুর হঠাৎ তার ওপর চড়াও হয়। কুকুরের আক্রমণে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে নাকে রক্তক্ষরণ হয়। তবে তাকে হাসপাতালে যেতে হয়নি। মামী শাশুড়ি তাকে সেবা শুশ্রুষা করেন।

কুকুরের আক্রমণে আহত হলেও মঈন উ আহমেদের শারীরিক অবস্থার কিছু উন্নতির দিকে। কয়েক মাস আগেও তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়েছে বলে ওইসময় খবর প্রচারিত হয়। মূলত ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অপ্রীতিকর


ঘটনার সাক্ষ্য দিতে বছর কয়েক আগে সংসদীয় কমিটি তাকে দেশে তলব করলে তিনি নিজের অসুস্থতার খবর তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, মঈনের ক্যান্সারের মতো মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয় রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এজন্য তাকে কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে। ওই সময় তার শরীরের ওজন কমে যায়। তার শরীর ক্রমেই থিন হয়ে যাচ্ছে।

সাপ্তাহিক পরিচয় তাদের রিপোর্টে আরো উল্লেখ করেছে, বর্তমানে জেনারেল মঈনকে প্রতিমাসে একটি করে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে। অর্থ সঙ্কটের কারণে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসায় তিনি নিউইয়র্কের মেডিকেইড সুবিধা নিচ্ছেন। প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও তার ক্যান্সারের চিকিৎসায় এ ধরনের সুবিধা নিয়েছিলেন।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুধুমাত্র নিউইয়র্ক রাজ্যে অনেকটা বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা থাকায় মঈন উ আহমেদ ফ্লোরিডা থেকে নিউইয়র্কের কুইন্সে মামী শাশুড়ির বাসায় চলে আসেন। বর্তমানে তিনি যে কক্ষে থাকছেন সেটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকে না। কয়েকবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন তিনি। বাসাটি খুবই ছোট। এ কারণে প্রায়ই তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন। অনেক সময় তিনি ফ্লোরিডা রাজ্যে ছেলের কাছে চলে যান।

পারিবারিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সাপ্তাহিক পরিচয় বলছে, বেশ কিছুদিন আগে নানা হয়েছেন জেনারেল মঈন। নিউইয়র্কে বেড়াতে গিয়ে তার মেয়ে সাবরিনা ছেলে সন্তানের মা হয়েছেন। নাতিকে নিয়ে খুশি জেনারেল মঈন এবং তার স্ত্রী নাজনীন মঈন।

অন্যদিকে ফ্লোরিডায় তাদের ছেলে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং পাস করেছেন। তবে পাস করার পর এখনো ভালো চাকরি পাননি। ফলে নিউইয়র্কে জেনারেল মঈনের আর্থিক সঙ্কট লেগেই আছে। দেশ থেকে টাকা নিয়ে খরচ চালাচ্ছেন এবং ভাইদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তিনি।

 

২০১১ সালের ৫ অক্টোবর ফ্লোরিডায় ছেলের সমাবর্তনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান জেনারেল মঈন। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে নিউইয়র্কে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু মেরুদণ্ডের হাড়ের এ সমস্যাটির উৎপত্তিস্থল ঘাড়ের নিচে হওয়ায় চিকিৎসকেরা আর অস্ত্রোপচার করতে পারছেন না।

তবে যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততদিন তাকে কেমোথেরাপি নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে বলে চিকিৎসকেরা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন। আপাতত তিনি দেশেও ফিরছেন না। স্ত্রী নাজনীন মঈনও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তার পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও ১/১১ এর সময়ের সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ই ঘটে আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড।

Must Like and Share 🙂

পরে অবসর নিয়ে অনেকটা নীরবে ২০০৯ সালের জুন মাসে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। বর্তমানে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ জীবনযাপন করছেন মইন ইউ আহমেদ। প্রথমে ফ্লোরিডায় ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকলেও পরে ‘থ্রোট ক্যানসার’ ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য তিনি নিউইয়র্কে চলে যান। ক্যানসারের জন্য কেমোথেরাপি ও বোনম্যারো অস্ত্রোপচারের পর এখন তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>